Saturday, January 19, 2019

সূতীর কান্না

কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলা হয়ে নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলায় মিলিত হওয়া একটি নদীর নাম সূতী।

লিখেছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক মুকুট দাস মধু   

রক্তঝরা বুক চিরে চৌচির নদী সূতী
স্রোতহীন,লাবণ্যহীন শুষ্ক অনুভূতি,
রঙিন ছেড়া পালের নৌকা
এখন আর যায়না দেখা কভূ
তরু মাঝির সেই বাঁশির সুর
প্রাণে বাজে তবু ।

তিরতিরিয়ে জল গড়িয়ে যায়
সূদুর গাঁয়ের একটি রেখা বরাবর
দু'পাড়ে ঘনসবুজ,কাশফুল বিভক্ত চর,
হারিয়েছে যৌবন কোলাহল যতসব
উচ্ছ্বল তরুণীর ভাষ্মর শৈশব।

অথচ-
রাত পোহালেই এখানে চলতো
কতশত নাবিকের আনাগোনা
হাটবাজার মুখরিত ছিলো জনারণ্যে,
ভেসে আসতো যাযাবর বেদেনি
সারিবদ্ধ ডিঙি এখন আর আসেনি।

লন্ঠনের আলোয় ভেসে বেড়াতো
সূতীর বুকে অসংখ্য তারা
বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ-বাজে ঐকতান,
ভেসে আসতো মাঝির ভাটিয়ালি গান
হৃদয়কাড়া ক্যাচ ক্যাচ দাঁড়ের টান।

বয়ে চলে সময় টিক টিক
কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায়
যত স্বপ্ন উচ্ছ্বলা সূতীর হায়,
লাঙ্গলের ফলা থেকে উঠে আসে
নবান্নের ঘ্রাণ - কৃষকের প্রাণ
বোবা কান্নায় মৃতপ্রায় সূতীর জান ।

ইট পাথুরে হাসে শিখরে জীবন
সূতীর আর্তি শোনে না মহাজন,
চার দেয়ালে এসির নিঃশব্দ বাতাস
নয়নাভিরাম কামরা,স্বচ্ছ কাঁচ-নীলিমা আকাশ ।

অভাব অভিযোগ যত দুঃখীর
রুদ্ধদ্বার বৈঠকে হয় শেষ
যতো নেতা-নেত্রী এবং সুখীর,
বাঁচাও নদী-দেশ,আগামীর প্রাণ
ধ্বনিত হোক সমাজের সকল সুধীর
কে রাখে খবর-চঞ্চলা মৃতপ্রায় সূতীর ...!

ছুটছে জীবন,উড়ছে পতাকা - বাজে ঐ ঘন্টা
প্রখর রৌদ্রতলে সারি সারি নেতা কর্মী
পদপৃষ্ঠে কম্পিত মাটি - কাঁপে ধরণী,
প্রত্যয়ে- গড়বো নতুন,পুরাতন সব চূর্ণী।

চাকার নীচে সূতী করছে হাহাকার
বাঁচার আর্তি শুধু - বারবার; বহুবার ।
              
            

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: