Thursday, January 31, 2019

কবিতা "বিদায় বাণী" লিখেছেন কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলার পাক্ষিক ইতিকথা প্রতিনিধি সুব্রত চক্রবর্তী

         সুব্রত চক্র বর্তী


বিদায় নিতে হবে জানি,
নিদির্ষ্ট সময়ে চির মহাপ্রয়াণে
অবশ্যই, চড়বে সবে মৃতসজ্জিত রথে।
আকাশে যেমন ক্ষণিকের মেঘমালা জমে
প্রশান্তির বৃষ্টিরুপে মাটিতে নেমে আসে
অনায়াসে যায় মিশে নীরবে ভূ—তলে।

কালক্রমে মৃত্যুগ্রাসী নিবে সবাইকে
হঠাৎ যাব চলে নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে।।
শুধুই সৎকর্ম, সৎদান, নিবে তোমায় এগিয়ে।
পথের সম্ভল আদর্শের কম্ভল রেখ স্বগর্ভে।

নাম, যশ, খ্যাতি সবের হবে ইতি
বাড়ি, গাড়ি, নারী পলকমাত্র স্মৃতি।
দুর্জয়মন বুঝে না করে শুধুইকারচুপি
অর্থ, গহণা গাড়ি চায় সবে বেশি—বেশি
বিবেকহীন মানুষ করে, শুধু পরধন চুরি।

মালিক হলো বাংশিদারী।
সবই দেখেন যিনি সিংহাসনে অারোহী।।
আমরা হলাম অপরাধী,অন্ধকারে যাত্রী
আলোর পথ দেখাও প্রভু তুমি কান্ডারী।
ভবের জ্বলায় নীরব দহন, সবে জিয়ন্তে মরে।
ছেড়ে যেতে প্রাণ পাখি কাঁদে অন্তরে।

মৃত্যু যখন গিলবে মোরে
যাব চলে পৃথিবী ছেড়ে
রবে সব স্মৃতি পরে
হয়তো, শোকসভা, মিছিল যাবে।
দিবালোকে স্মৃতিসব মন্থন কালে
কাঁদবে তুমি বালিশ ধরে
শুধুই আমার কর্মকথা স্মরণকরে।

তোমায় ছেড়ে কেমন করে?
রইব আমি জমালয়ে
চাইনা সুখ পরপারে
তুমি ছাড়া ও সাথীরে
মনটা তুমি রেখ পাষাণ পাথরে
সত্যিই হারাবো যখন চিন্ময়ালয়ে

রূপ কথার কাব্যময়ী,স্মৃতিময়ী নারী
হৃদ কুঞ্জে করেছ বসতি হয়ে চম্পাবতী।
নীরবে সরবে পুলকিত করেছো অনুভুতি।
নিশিত—যামিনী হয়ে কামিনী
নিয়েছ আসন মনোরাজ্যের রাণী
সর্বত্যাগী হয়ে তোমার করেছি মনবিশ্ব জয়,হয়েছি নীরব বিশ্বজিৎ।
খুব সহজেই ভুলেছো কি সোনালী অতীত?
মিছে সুখে ভুলেছি সব নিজেই হলাম বলি
পরিবার পরিজন অকপটে দিলাম জলাঞ্জলি।

তব সেবায় সতত কুড়িয়েছি আমি
নির্বিকার বাড়ি, গাড়ি—গহণা—কড়ি,
পরধন করছি চুরি ভুরি–ভুরি।


আজ রিক্তমনে শূন্যহাতে দাড়িয়েছি খেয়াঘাটে।
মরণ ফাঁদে পা বাড়ালে দেখবে না অার ফিরে।
হাজার মানুষ করবে ভীড় দেহপাশ ঘিরে।
কেউবা হাসবে,কেউবা কাদঁবে,কেউবা জড়াবে বুকে।
মাটিতে নয় পুঁতে দিবে,হয় চিতায় পোড়াবে।

বিদায়বাণী রেখে গেলাম ভবনদীর তীরে।
স্মৃতি কথা পড়লে মনে ভালোবেসো মোরে।


লেকক সুব্রত  চক্রবর্তী  সহজ সাধারণ  জীবন যাপনকারী । অহিংসা সত্য  ও সুন্দরের প্রতিচ্ছবিতে মোহিত থাকেন। ভালোলাগা থেকে সমাজিক শিক্ষা সহ সাধ্যমত উন্নয়ন  কর্মকাণ্ড  পরিচালনা করেন। 




শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: