বিগত বছরের মতো এ বছরও যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইকোনমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ)’ ‘বৈশ্বিক বসবাসযোগ্যতা’ শীর্ষক জরিপ প্রকাশ করেছে। যথারীতি এ তালিকায় ঢাকার স্থান শেষতম থেকে একধাপ ওপরে অর্থাৎ ১৩৯তম (১৪০টি শহরের মধ্যে)। ২০১৭ ও ২০১৬ সালেও এ সংস্থার জরিপে বসবাসের সবচেয়ে অনুপযোগী তৃতীয় শহর হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল ঢাকা। এ সংস্থার জরিপে বসবাসযোগ্যতার নিরিখে গত সাত বছরে ঢাকা শহরের কোনো উন্নতি হয়নি। ২০১২ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত প্রতিবারই বসবাসের অযোগ্য ১০ শহরের তালিকায় শেষের দিকে ছিল ঢাকা। এ বছর সবচেয়ে যোগ্য শহর বিবেচিত হয়েছে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা। আর সবচেয়ে অযোগ্য শহর হিসেবে বিবেচিত হয়েছে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক। প্রায় পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধবিধ্বস্তে জর্জরিত দামেস্ক শহর বসবাসের অযোগ্য হবে এটাই স্বাভাবিক! কিন্তু তাই বলে এর পরের স্থান হবে রাজধানী ঢাকার! হ্যাঁ, ঢাকায় নগরবাসী নীরব জীবনযুদ্ধ করে টিকে আছে! কোনো রকম জরিপ ছাড়াই রাজধানীবাসী প্রতিদিন হাড়ে হাড়ে এই সত্য উপলব্ধি করছে! এক কথায়, ঢাকা শহর নগরবাসীর জন্য মন্দের ভালো! জরিপে বসবাসযোগ্যতা নির্ধারণে সুপরিসর আঙ্গিকে পাঁচটি মানদ- বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এগুলো হচ্ছে স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং অবকাঠামো। প্রতিটি বিভাগেই তিন থেকে নয়টি করে মোট ৩০টি সূচকের ভিত্তিতে শহরের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশ্ন জাগে, এ ঢাকা কেমন ঢাকা! দীর্ঘ সময় ধরে নানা সংকট-সমস্যা আর আধুনিক সুযোগ-সুবিধাহীন অবস্থায় থাকতে থাকতে মনে হতে পারে, এটাই মনে হয় বাসযোগ্য ঢাকা! এ কথা অবলীয়ায় বলা যায়, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও জনবহুলতার কারণে ঢাকায় যেকোনো দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হবে অবর্ণনীয়।
তথ্য সূত্রে, ঢাকা বিশ্বের দ্বিতীয় ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে থাকা নগরও বটে! ঢাকা শহরের মানুষকে প্রতিদিন নানা সমস্যার মধ্যে জীবনযাপন করতে হচ্ছে। বাতাসে সিসা, খাদ্যে ভেজাল, গ্যাস-পানির সমস্যা বহু দিন ধরে চলে আসছে এ শহরে। আর অর্থের বিনিময়েও যে বিশুদ্ধ পানি পাওয়া যাবে, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। গণপরিবহন বলতে যা বোঝায় তা কি ঢাকায় আছে! উচ্চ খরচে চিকিৎসাসেবা পামওয়া গেলেও তার মান নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। একটু বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতায় পড়তে হয় নগরবাসীকে। লাখ-লাখ টাকা খরচ করে শহরের রাস্তার ফুটপাতের ড্রেনগুলো প্রতি বছর নতুন করে তৈরি ও খনন করা হচ্ছে। কিন্তু যথাযথ পরিকল্পনা ও নগরবাসীর সচেতনতার অভাবে তা আবার অকেজো হয়ে পড়ছে।



0 coment rios: