বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। মানুষ অধিক চিন্তাশীল ও সচেতন মনে অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত করছে।
চলমান অর্থনীতির সূচকগুলো এখন যে জায়গায় আছে, তাতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অতটা খারাপ বলে মনে করছেন না বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক কেএএস মুরশিদ।
তবে উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ তিনিও দেখছেন। তার ভাষায়, “বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ভিকটিম।”
বাংলাদেশ ইতিহাসের সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের পরপরই মহামারী এসে হাজির। গত দুই বছরে অন্য সব দেশের মত বাংলাদেশের অর্থনীতিও ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। সেই ধাক্কা সামলে ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
কিন্তু মহামারীর মতই কোনো পূর্বাভাস না দিয়ে ইউক্রেইনে যুদ্ধ লাগিয়ে দিল রাশিয়া। তাতে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হল বিশ্ব বাণিজ্যে, বাংলাদেশের অর্থনীতির সাজানো ঘরও নড়ে উঠছে উপুর্যপরি দুই ঝড়ে। অধিক চিন্তার বিষয়।
নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে হু হু করে। মূল্যস্ফীতির হার পৌঁছেছে দেড় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে। নিম্নবিত্ত আর মধ্যবিত্তের সংসারে তেল-নুনের হিসাব মেলাতে স্বাভাবিকভাবেই প্রচণ্ড চাপ পড়ছে।
মহামারীর ধাক্কা সামলে আমদানি বাড়ায় স্বস্তিই পাচ্ছিলেন অর্থনীতিবিদরা। কিন্তু সার্বিক বিশ্ব পরিস্থিতিতে ডলারের দাম চড়তে থাকায় পণ্য আমদানিই এখন মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে।
বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্য ইতিহাসের সর্বোচ্চে ঘাটতিতে পড়েছে। ডলারের দর হয়ে উঠেছে পাগলা ঘোড়া। ২০২১ সালের মে থেকে ২০২২ সালের মে- এই এক বছরে ডলারের বিপরীতে ৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ মান হারিয়েছে টাকা।
এদিকে রপ্তানি বাড়লেও রেমিটেন্সে টান পড়েছে। কিন্তু পণ্য আমদানি করতে গিয়ে ডলার বেরিয়ে যাচ্ছে অনেক। তাতে চাপ পড়ছে রিজার্ভে।
ভয়ের ক্ষেত্র আরও পোক্ত করেছে শ্রীলঙ্কা। ডলারের সঙ্কটে সম্ভাবনাময় অর্থনীতির দেশটি নাম লিখিয়েছে ঋণখেলাপির খাতায়। মূল্যস্ফীতি আর অর্থনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা শ্রীলঙ্কার পাশাপাশি পাকিস্তানেও সরকারপতন ঘটিয়েছে। পণ্যমূল্যের দাবানল যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের উন্নত দেশগুলোকেও পোড়াচ্ছে।
দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি প্রভাব ফেলছে আমদের ব্যাক্তি জীবনে।



0 coment rios: